Friday, March 27, 2026

বড়ই পাতা কিভাবে ব্যবহার করলে এলার্জির উপকার হয়

 বড়ই পাতা (যাকে অনেক স্থানে বরই পাতা বা জিজিফাস পাতাও বলা হয়) প্রাচীনকাল থেকে চর্মরোগ ও এলার্জি নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অ্যালার্জিক, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান আছে। নিচে বড়ই পাতা এলার্জিতে ব্যবহারের কিছু কার্যকর উপায় দেওয়া হলো 👇

🌿 ১. ত্বকের এলার্জি বা চুলকানিতে (বাহ্যিক ব্যবহার)

উপকরণ:

তাজা বড়ই পাতা – এক মুঠো

পানি – ২ কাপ

ব্যবহার পদ্ধতি:

পাতাগুলো ভালোভাবে ধুয়ে নিন।

২ কাপ পানিতে পাতাগুলো ফুটিয়ে নিন যতক্ষণ না পানি অর্ধেক হয়ে আসে।

ঠান্ডা হলে ছেঁকে নিন।

সেই পানি দিয়ে আক্রান্ত জায়গা ধুয়ে নিন অথবা তুলা ভিজিয়ে লাগিয়ে রাখুন।

দিনে ২ বার করলে চুলকানি ও লালচে ভাব কমে যায়।

🍵 ২. অ্যালার্জি থেকে সৃষ্ট দেহের ভেতরের প্রদাহে (ভেতর থেকে পরিশোধন)

উপকরণ:

শুকনা বড়ই পাতা বা তাজা পাতা – ৫–৭টি

পানি – ১ কাপ

ব্যবহার পদ্ধতি:

পানি গরম করে পাতাগুলো দিন।

৫ মিনিট ঢেকে রাখুন, তারপর ছেঁকে চা হিসেবে পান করুন।

দিনে ১ বার সকালে খালি পেটে খাওয়া যেতে পারে (১ সপ্তাহের বেশি নয়)।

⚠️ যাদের পেট সংবেদনশীল বা লিভারের সমস্যা আছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাবেন।

🌸 ৩. বড়ই পাতা ও নিমপাতা একসাথে

যদি চুলকানি বা ফুসকুড়ি বেশি হয়,

তাহলে বড়ই পাতা + নিমপাতা একসাথে ফুটিয়ে পানি তৈরি করে দিনে ২ বার আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করলে দ্রুত আরাম মেলে।

🚫 সতর্কতা:

গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারী চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করবেন না।

অতিরিক্ত ঘন করে বা দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে ত্বক শুকিয়ে যেতে পারে।

এলার্জি গুরুতর হলে (যেমন: শ্বাসকষ্ট, ফোলাভাব, জ্বালা ইত্যাদি) — দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হন।

Friday, May 23, 2025

আবেগভরা তাওবার দোয়া — কষ্টের সময়ের জন্য

 ইয়া রাহমানুর রাহিম,

ইয়া গফ্ফার, ইয়া তাওয়াব…

আমি ফিরে এসেছি, হে প্রভু!
ফিরে এসেছি ভাঙা হৃদয়, ভেজা চোখ, আর পাপময় জীবন নিয়ে।
আমি ক্লান্ত দুনিয়ার প্রতারণায়,
তোমার ছায়ায় একটু শান্তি খুঁজতে এসেছি।

আমি সেই অপরাধী, যে বারবার ভুল করে,
তবুও তোমার দরজায় ফিরে আসি
তুমি তো কুরআনে বলেছ:

"قُلْ يَا عِبَادِيَ ٱلَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا۟ مِن رَّحْمَةِ ٱللَّهِ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَغْفِرُ ٱلذُّنُوبَ جَمِيعًا ۚ"
"বল, হে আমার সেই বান্দারা যারা নিজেদের ওপর সীমা লঙ্ঘন করেছে! আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গোনাহ ক্ষমা করেন।"
(সূরা আয-যুমার, ৩৯:৫৩)

হে আল্লাহ,
তুমি আমাকে ক্ষমা কর।
তুমিআমাকে বদলে দেও—
যেমন অন্ধকার রাতের পর ভোর আসে,
তেমনি আমার জীবনেও তোমার নূরের আলো আসুক।

"اللهم اجعلني من التوابين، واجعلني من المتطهرين"
"হে আল্লাহ! আমাকে তাওবা কারীদের অন্তর্ভুক্ত করো,
এবং আমাকে পবিত্রদের মধ্যে রাখো।"

হে দয়ালু রব,
যে কষ্টগুলো আমি কাউকে বলতে পারি না,
সে কষ্টগুলো তুই জানিস।
তুমি দয়া কর,
তুমি এই হৃদয়ের কান্না কবুল কর।

আমার জীবনের সব জট খুলে দেও,
আমার পাপ মোচন কর,
আমার চোখে শান্তির ঘুম ফিরিয়ে দে,
আমার অন্তরে ঈমানের আলো জ্বালিয়ে দেও।

ইয়া রাব্ব,
আমার মা-বাবাকে হিফাজত করো,
আমার পরিবারে বরকত দাও,
আমার রিজিক হালাল করো,
আমার মৃত্যু ঈমানের সঙ্গে দাও।

আমিন, ছুম্মা আমিন, ইয়া আল্লাহ।

Friday, August 25, 2023

ঘুমানোর আগে লবঙ্গ খেলে ম্যাজিকের মতো কাজ করে

 


ঘুমানোর আগে লবঙ্গ খেলে ম্যাজিকের মতো কাজ করে



লবঙ্গ মসলা হিসেবে সকলের পরিচিত। লবঙ্গের বৈজ্ঞানিক নাম সিজিজিওমোরোমেটাম। লবঙ্গ গাছের ফুলের কুড়িকে শুকিয়ে তৈরি করা হয়। লবঙ্গকে লং বলেও ডাকা হয়। লবঙ্গের সুগন্ধের মূল কারণ ‘ইউজেনল’ নামের যৌগ। এটি লবঙ্গ থেকে প্রাপ্ত তেলের মূল উপাদান, এবং এই তেলের প্রায় ৭২-৯০% অংশ জুড়ে ইউজেনল বিদ্যমান। এই যৌগটির জীবাণুনাশক এবং বেদনা নাশক গুণ রয়েছে।

লবঙ্গের তেলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো অ্যাসিটাইল ইউজেনল, বেটা-ক্যারোফাইলিন, ভ্যানিলিন, ক্র্যাটেগলিকঅ্যাসিড, ট্যানিন, গ্যালোট্যানিক অ্যাসিড, মিথাইল স্যালিসাইলেট, ফ্ল্যাভানয়েড, ইউজেনিন, র্যা ম্নেটিন, ইউজেনটিন, ট্রি-টেরপেনয়েড, ক্লিনোলিক অ্যাসিড, স্টিগ্মাস্টেরল, সেস্কুইটার্পিন।

১০০ গ্রাম লবঙ্গে ৬৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৬ গ্রাম প্রোটিন, ১৩ গ্রাম টোটাললিপিড, ২ গ্রাম সুগার, ২৭৪ কিলো-ক্যালোরি শক্তি ও ৩৩ গ্রাম ডায়েটারিফাইবার থাকে।

খনিজের মধ্যে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, জিঙ্ক –কমবেশি সবই আছে। আর ভিটামিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বি-৬, বি-১২, সি, এ, ই, ডি, কে, থায়ামিন, রাইবোফ্লাভিন, নিয়াসিন, ফোলেট রয়েছে। এই সব যৌগের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য আছে।

লবঙ্গের গুণাগুণ শুধু রান্নাতেই নয়, তার বাইরেও আছে। সুস্বাস্থ্যে জন্য লবঙ্গ নানা ভাবে আমাদের উপকারে আসে। গবেষণায় বারবার প্রমাণিত, রোগ নিরাময়ে লবঙ্গের যথেষ্ট কার্যকারিতা রয়েছে।

লবঙ্গে ম্যাঙ্গানিজ থাকায় মস্তিষ্কের বিভিন্ন কাজকর্ম সুষ্ঠু রাখতে ও হাড় শক্ত করতে এই উপাদান খুব জরুরি। ম্যাঙ্গানিজের একটি উৎকৃষ্ট উৎস হল লবঙ্গ। লবঙ্গে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে, যা ফ্রি র্যাডিকলস কমাতে সাহায্য করে। লবঙ্গের একটি উপাদান হল ইউজেনল, যা প্রাকৃতিক অ্যান্টি- অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।

প্রত্যেক দিন ব্যক্তির রাতে ঘুমানোর আগে ১টি লবঙ্গ ও ১ গ্লাস গরম পানি পান করলে বিভিন্ন ধরনের রোগের থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে সহজেই। লবঙ্গ হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে সাহায্য করে। যেমন- গ্যাস, বমিভাব এবং বদহজমের মতো অনেক সমস্যায় লবঙ্গ খুব উপকারী। এছাড়াও লবঙ্গ প্রতিদিন খেলে গলায় সংক্রমণ হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। বুকের জমে থাকা কফ বের হয়ে যায়। হজম, পিত্তবিনাশকারী, হাঁপানি, জ্বর, বদহজম, কলেরা, মাথাব্যথা, হাঁচি এবং কাশির মতো রোগেও এটি বিশেষ উপকারী।

লবঙ্গের আর একটি উপাদান হল নাইজেরিসিন। বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই উপাদানের জন্যই রক্ত থেকে শর্করা বিভিন্ন কোষে পৌঁছে দেওয়া, ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষগুলির কার্যক্ষমতা বাড়ানো ও ইনসুলিন নিঃসৃত হওয়ার পরিমাণ বাড়ানোর মতো কাজ ভালো ভাবে হয়। তাই মধ্য মাত্রার ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে লবঙ্গ ভালো কাজে দেয়। লো-বোন মাস এমন একটি অবস্থা, যা বয়োজ্যেষ্ঠদের মধ্যে অস্টিয়োপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। কয়েকটি পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, লবঙ্গের উপাদান হাড়ের জোর ও বোন ডেনসিটি বাড়াতে সাহায্য করে।

দাঁতের ব্যথা কমায়। লবঙ্গ দাঁতের ব্যথা দূর করে। মাড়ির ক্ষয় নিরাময় করে। লবঙ্গতে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর এমন কিছু বিক্রিয়া করে যে নিমেষে দাঁতের যন্ত্রণা কমে যায়। প্রায় সব টুথপেস্টের কমন উপকরণ এই লবঙ্গ।

বমি বমি ভাব দূর করে লবঙ্গ। ট্রেনে বা বাসে যাওয়ার সময় যদি মাথা ঘুরতে থাকে ও বমি এসে যায়, তাহলে মুখে একটি লবঙ্গ রেখে সেই রস চুষলে বমি ভাব ও মাথা ঘোরা কমে যাবে। গর্ভবতী মায়েরা সকালের বমিবমি ভাব দূর করতে লবঙ্গ চুষতে পারেন। লবঙ্গের সুগণ্ধ বমিবমি ভাবদূর করে।

লবঙ্গ সর্দি–কাশি ও ঠাণ্ডা লাগা কমায়। সর্দিকাশির মহৌষধ হিসেবে লবঙ্গ বহু বছর ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। লবঙ্গ চিবিয়ে রস গিলে খেলে বা লবঙ্গ মুখে রেখে চুষলে সর্দি, কফ, ঠাণ্ডা লাগা, অ্যাজমা, গলাফুলে ওঠা, রক্ত পিত্ত আর শ্বাস কষ্টে সুফল পাওয়া যায়।

মাথা ব্যথা ও মাথা যন্ত্রণা কমায়: ধোঁয়া, রোদ এবং ঠান্ডার জন্য শ্লেষ্মা বেড়ে নানা ধরনের মাথা ব্যথা বা মাথার রোগ দেখা দিতে পারে। মাথা ব্যথা কমাতে লবঙ্গের উপকারিতা অপরিসীম।

লবঙ্গ কামোদ্দীপক ও যৌন রোগে উপকারি। লবঙ্গ কামোদ্দীপক। এর সুবাস অবসাদ দূর করে, শরীর ও মনের ক্লান্তি ঝরিয়ে দেয়। যৌন শক্তি বৃদ্ধি করে।

প্রচণ্ড স্ট্রেস ও উৎকণ্ঠা কমায়। এক টুকরো লবঙ্গ মুখে ফেলে চুষে চুষে খেয়ে ফেলুন। পান করতে পারেন লবঙ্গের চাও। মেজাজ ফুরফুরে হয়ে উঠবে।

রক্ত পরিশোধন করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। লবঙ্গ শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদানগুলো সরিয়ে রক্তকে পরিশোধন করতে ভূমিকা রাখে। রক্তকে পরিস্কার করে।

লবঙ্গ হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। হজমে সহায়তা করে এমন এনজাইমনিঃসরণের মাধ্যমে এবং অ্যাসিড ক্ষরণের মাধ্যমে লবঙ্গ আমাদের হজম ক্ষমতা সক্রিয় করে তোলে। এরাফ্লাটুলেন্স, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, ডিসপেপসিয়া এবং নসিয়া কমাতে সাহায্য করে। এটি শরীরের রক্ত প্রবাহেরও উন্নতি ঘটায়।

ডায়াবেটিস রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখে লবঙ্গ। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে প্রয়োজনীয় ইনসুলিন তৈরি হতে পারে না। গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, লং এর রস শরীরের ভিতরে ইনসুলিন তৈরিতে সাহায্য করে ও কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়, এবং রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

আর্থ্রাইটিসের যন্ত্রণা কমায়। লবঙ্গে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান আর্থ্রাইটিসের প্রকোপ কমাতে সাহায্য করে। প্রসঙ্গত, জয়েন্টপেইন কমানোর পাশাপাশি পেশির ব্যথা, হাঁটুতে, পিঠে বা হাড়ের ব্যথা এবং ফোলা ভাব কমাতেও এই ঘরোয়া ঔষধটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

ক্যানসার প্রতিরোধ করে লবঙ্গ। বিশেষ করে ব্রেস্ট ক্যানসার, ওভারিয়ান ক্যানসার প্রতিরোধ করে থাকে।

Sunday, August 28, 2022

ফিটকিরির ব্যবহার

 জেনে নেওয়া যাক ফিটকিরি ব্যবহার করে কী ভাবে সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে জানিয়েছে বাস্তুশাস্ত্র—

১) আপনি যথাসাধ্য পরিশ্রম করেন। কিন্তু তাতেও ভাগ্যের সাহায্য পান না। এমনটা হলে, একটি কালো কাপড়ের মধ্যে এক টুকরো ফটকিরি বেঁধে দরজায় ঝুলিয়ে রাখতে পারেন। এর ফলে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব কমিয়ে ভাগ্যের বিকাশ ঘটে বলে বিশ্বাস।
২) আরও পথ বলছে বাস্তুশাস্ত্র। স্নানের ঘরে একটি বাটিতে ফটকিরি রেখে দিন। প্রতি মাসে একবার করে ফটকিরি বদলে দিতে হবে। বাড়ির মধ্যে থাকা নেতিবাচক শক্তিকে ওই ফটকিরি শুষে নেয় বলেই বিশ্বাস।
৩) তৃতীয় পদ্ধতিতে ফটকিরির একটা বড় টুকরো গুঁড়ো করে নিন। সেটা ঘরের বিভিন্ন কোনায় ছড়িয়ে রাখুন। এর ফলে ঘরে কোনও রকম অশুভ বা নেতিবাচক শক্তির প্রভাব পড়বে না বলে বিশ্বাস।
৪) আপনি যদি ‘নজর লাগা’য় বিশ্বাসী হন তবে পা থেকে মাথা পর্যন্ত সাত বার একটি ফটকিরি ঘষতে পারেন। এর পরে ওই ফটকিরির টুকরোটি আগুনে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। এর ফলে কারও নজর লেগে থাকলে তা থেকে মুক্তি মেলে বলে বিশ্বাস।
৫) অনেকেই ঘুমের মধ্যে ভয়ঙ্কর স্বপ্ন দেখেন। বলা হচ্ছে, শোওয়ার সময়ে মাথার পাশে এক টুকরো ফটকিরি রাখলে ভাল ফল মেলে। এর ফলে চারপাশের নেতিবাচক শক্তিকে ফটকিরি টেনে নেয় বলে বিশ্বাস। আর তার জন্যই ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে না।

Friday, May 6, 2022

এডমিক্সার কংক্রিট এর একটি উপাদান

 এডমিক্সার কংক্রিট এর একটি উপাদান, তবে এই উপাদান বাধ্যতামুলক নয়, ঐচ্ছিক। কংক্রিটের মুল উপাদান হলো সিমেন্ট,পানি এবং এগ্রিগেট। কংক্রিটের মধ্যে কিছু পরিমান বাতাসও থাকে। তবে সেটা অনিচ্ছাকৃত। . এটি কংক্রিটের একটি উপদান হিসাবে ব্যবহার করা হয় যা কংক্রিট মিশ্রণের ঠিক পুর্বে বা কংক্রিট মিশ্রণের সময় কংক্রিট এর সাথে মেশানো হয়। কংক্রিটের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট বা গুনাগুন বৃদ্ধি বা হ্রাসের জন্য এই এডমিক্সার ব্যবহার করা হয়। মোট কথা প্রয়োজন অনুসার কংক্রিটের গুনাগুন পরিবর্তনের জন্য ব্যবহার করা হয়। #ইতিহাস
 • কংক্রিটের ইতিহাসের মতই এই এডমিক্সার এর ইতিহাস অনেক পুরাণো।তবে বর্তমানে বিভিন্ন ধরণের এডমিক্সার পাওয়া যায়। আগে এতো ধরণের বা প্রকারের এডমিক্সার ছিল না। 
• প্লাস্টিসাইজার বা সুপারপ্লাস্টিসাইজার কিন্তু আগে ছিলনা। 1970 সালে এর আবিস্কার। কিন্তু ভারত উপমহাদেশে এর প্রচলন 1985 সালের দিকে। প্লাস্টিসাইজার দিয়ে কংক্রিটের পানির পরিমান কমানো যায়। এতে করে কংক্রিট এর শক্তি অনেক বাড়ানো সম্ভব। . #কেন ব্যবহার করা হয় এই এডমিক্সার? 
• কাচা ও পাকা কংক্রিটের মান পরিবর্তনের জন্য। • মেশানো, পরিবহন, স্থাপন এবং ভেজানোর গুনগত মান ঠিক রাখার জন্য।
 • কংক্রিটের কাজের সময় কিছু সময় স্বল্পতা থাকলেও এর ব্যবহার হয়। যাতে করে তাড়াতাড়ি জমাট বাধে। • স্লাম্প এবং কার্যক্ষমতা বাড়ানোর জন্য।
 • প্রাথমিক জমাট বাধাকে ধীর বা তাড়াতাড়ি করার জন্য 
• কুচকে যাওয়াকে প্রতিরোধ করার জন্য বা কমানোর জন্য
 • কঙক্রিটের মধ্য থেকে এর তরল মসলা উপরে উঠে আসাকে কমানো। 
• এর উপাদান সমুহের বিচ্ছিন্ন হওয়াকে কমানো • তাপ উৎপাদন হওয়াকে কমানো বা ধীরে করা 
• স্ট্রেন্থ বা শক্তি বাড়ানো (চাপ শক্তি, টান শক্তি ও বাকানো শক্তি)
 • পানিবাহিতা কমানো
 • স্টীলের সাথে কংক্রিটের বন্ধন দৃঢ় করার জন্য
 • নতুন এবং পুরোনো কংক্রিটের মধ্যে বন্ধণ দৃঢ় করার জন্য • কংক্রিটকে মজবুত করা। হঠাৎ বল বা ক্ষয় রোধ করা 
• এর মধ্যবর্তি রডের মরিচা বা ক্ষয় রোধ করা
 • ধুয়ে চলেযাওয়া
 • বিভিন্ন রঙের কংক্রিট তৈরি করা .
 #কিভাবে এর প্রয়োগ করতে হয়? সাধারনত পানি দেওয়ার পুর্বে শুকনা সিমেন্ট-এগ্রিগেটের সাথে মেশানো হয়। অথবা পানির সাথে মেশানো হয়। . #প্রকারভেদ 
• রাসায়নিক
 • জৈবিক . রাসায়নিক এডমিক্সার এর কিছু ব্যবহার
 • প্লাস্টিসাইজার বা পানি কমানো
 • সুপার প্লাস্টিসাইজার বা অধিক পানি কমানো
 • ধীরে জমাট বাধা বা শক্ত হওয়া 
• দ্রুত শক্ত হওয়া
 • এয়ার-এনট্রেইনিং (বাতাসের বাবল তৈরি করা)এর ফলে আবহাওয়ার পরিবর্তনে কংক্রিট ভাল থাকে, কংক্রিটের সংকোচন বা প্রসারণ এই বাতাসে হয় 
• বাতাসের বাবল কমিয়ে আনা 
• ক্ষয়রোধী 
• সংকোচনরোধী
 • পানির প্রবাহ কমানো . জৈবিক এডমিক্সার 
• সিমেন্টিও
 • পোজ্বলিক 
• Ground Granulated Blast Furnace Slag (GGBS)
 • ফ্লাই এ্যাশ
 • সিলিকা
 • ধানের তুষ # বাংলাদেশের কংক্রিট এডমিক্সার বাজার বাংলাদেশের কংক্রিট এডমিক্সার বাজার নির্মাণ শিল্পে দ্রুত বর্ধমান । বিনিয়োগের সুযোগ এবং পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে, খাতটি দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক উভয় সংস্থার জন্য শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির প্রস্তাব দিচ্ছে। কংক্রিট মিশ্রণ নির্মাণ রাসায়নিকের এই বাজারটি 2019 থেকে 2025 পর্যন্ত বড় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের কংক্রিট এডমিক্সার বাজার দ্রুত নগরায়ণ দ্বারা পরিচালিত হয় যা নির্মাণ শিল্পের বাজারকে বাড়িয়ে তোলে। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম প্রধান উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশ এবং অবকাঠামোর মানের দিক থেকে দেশটি কঠোর প্রতিযোগিতার মুখোমুখি। দেশের অবকাঠামোকে উন্নত অর্থনীতির সমতুল্য করার জন্য, বাংলাদেশ সরকার দেশে বিদ্যমান অবকাঠামো উন্নয়নে এবং উন্নয়নের জন্য প্রচুর বিনিয়োগ করছে। এমনকি প্রতিবেশী দেশগুলির নির্মাণ শিল্পও পরবর্তী দশকে শক্তিশালী হারে বাড়তে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আবাসিক ও অনাবাসিক ভবনে সরকারি ও বেসরকারী খাতের বিনিয়োগ বাড়ানো বাংলাদেশের নির্মাণ বাজারকে জোরদার করতে পারে। সুতরাং, নির্মাণ এবং পরিকাঠামো শিল্পের কংক্রিটের অন্য উপকরণগুলি সাথে সাথে কংক্রিট এডমিক্সার বাজারও বিশাল সম্ভাবনাময়। গ্রাহক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং টেকসই নাগরিক কাঠামো বাংলাদেশে কংক্রিট এডমিক্সার বাজার দ্রুত বর্ধমানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আসলে কংক্রিট কাঠামো খরচ ঠিকাদার ও স্টকহোল্ডার উভয়ের জন্য কার্যকর, সুবিধাজনক ও লাভজনক হওয়ায় কংক্রিট এডমিক্সার জনপ্রিয়তা লাভ করছে। এর বাইরে অর্থনৈতিক চক্রের সাম্প্রতিক ওঠানামা সহ অনেক উন্নত দেশগুলিতে প্রতিষ্ঠিত অবকাঠামো বাজারের বৃদ্ধিকে বাধা দিয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিকূল আবহাওয়ার পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রতিরোধের পাশাপাশি সর্বোচ্চ পৃষ্ঠতল সমাপ্তির চাহিদা আরও বেশি সুযোগ তৈরি করার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের কংক্রিট এডমিক্সার বাজারের সাথে জড়িত শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলি হলো- Baral Chemical, BASF, Fosrok, Pidilite, Conmix, Conpacmix, Chryso, W. R. Grace, Sika ইত্যাদি

Sunday, June 14, 2020

সাইয়িদুল ইস্তিগফার (সাইয়েদুল ইস্তেগফার) বা ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দো‘আ

সাইয়িদুল ইস্তিগফার (সাইয়েদুল ইস্তেগফার) বা ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দো‘আ

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে এই দো‘আ পাঠ করবে, দিনে পাঠ করে রাতে মারা গেলে কিংবা রাতে পাঠ করে দিনে মারা গেলে,
সে জান্নাতী হবে’।

اَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّىْ لآ إِلهَ إلاَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِىْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّمَا صَنَعْتُ، أبُوْءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَىَّ وَأَبُوْءُ بِذَنْبِىْ فَاغْفِرْلِىْ، فَإِنَّهُ لاَيَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلاَّ أَنْتَ-

উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা আনতা রববী লা ইলা-হা ইল্লা আনতা খালাক্বতানী, ওয়া আনা ‘আবদুকা ওয়া আনা ‘আলা ‘আহদিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাসতাত্বা‘তু, আ‘ঊযুবিকা মিন শার্রি মা ছানা‘তু। আবূউ লাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়া ওয়া আবূউ বিযাম্বী ফাগফিরলী ফাইন্নাহূ লা ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আনতা।

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার পালনকর্তা।
তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ।
আমি  তোমার দাস।
আমি আমার সাধ্যমত তোমার নিকটে দেওয়া অঙ্গীকারে ও প্রতিশ্রুতিতে দৃঢ় আছি।
আমি আমার  কৃতকর্মের অনিষ্ট হ’তে তোমার নিকটে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
আমি আমার  উপরে তোমার দেওয়া অনুগ্রহকে স্বীকার করছি এবং আমি আমার গোনাহের স্বীকৃতি দিচ্ছি।
অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা কর। কেননা তুমি ব্যতীত পাপসমূহ ক্ষমা করার কেউ নেই’।


বুখারী, মিশকাত হা/২৩৩৫ ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, ‘ইস্তিগফার ও তওবা’ অনুচ্ছেদ