Monday, March 6, 2017

দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের সিমেন্ট

দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক
মানের সিমেন্ট
| ১৮ মে ২০১৫,প্রথম আলো
একটি কাঠামো দাঁড় করাতে প্রয়োজন রড। ওই
কাঠামোকে মজবুত ভিত্তিতে পরিণত করতে
প্রয়োজন সিমেন্ট। আর তাই ভবন নির্মাণে
সিমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। ভবন
নির্মাণের ক্ষেত্রে রড, ইট, পাথর ও বালু যেমন
প্রয়োজন, তেমনি এগুলোকে একটি
কাঠামোতে রূপ দিতে প্রয়োজন হয়
সিমেন্টের। এটি একটি কাঠামোকে শক্তভাবে
ধরে রাখতে সাহায্য করে।
দেশে অবকাঠামো নির্মাণকাজ বেড়েছে। এসব
ভবন ও অবকাঠামো প্রকল্পে সিমেন্টের
প্রয়োজনীয়তাও দিন দিন বাড়ছে। এ জন্য
সিমেন্ট খাতও বাড়ছে। সিমেন্ট উৎপাদনে চতুর্থ
প্রজন্মের এইচইসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা
নিশ্চিত করছে সর্বোচ্চ মানের সিমেন্ট।
বর্তমানে দেশেই উৎপাদন করা হচ্ছে
আন্তর্জাতিক মানের সিমেন্ট। এমনকি দেশের
চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে
সিমেন্ট। সিমেন্ট ব্যবসায় যুক্ত সংশ্লিষ্ট মানুষের
সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
বর্তমানে দেশে সিমেন্ট উৎপাদনে ৩৫টি
কোম্পানি রয়েছে। এরা হলো শাহ সিমেন্ট,
এমআই সিমেন্ট, প্রিমিয়ার সিমেন্ট, হোলসিম
সিমেন্ট, সেভেন সার্কেল সিমেন্ট, ইউনিক
সিমেন্ট (ফ্রেশ), সিমেক্স সিমেন্ট, আনোয়ার
সিমেন্ট, মদিনা সিমেন্ট, ইস্টার্ন সিমেন্ট, মির
সিমেন্ট, আকিজ সিমেন্ট, মেট্রোসেম
সিমেন্ট, উত্তরা সিমেন্ট, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট,
ছাতক সিমেন্ট, হেইডেলবার্গ সিমেন্ট, রয়েল
সিমেন্ট, আরামিট সিমেন্ট, এনজিএস সিমেন্ট,
ডায়মন্ড সিমেন্ট, এস আলম সিমেন্ট, মোস্তফা
হাকিম, কনফিডেন্স সিমেন্ট, মেঘনা সিমেন্ট, মংলা
সিমেন্ট, দুবাই বাংলা সিমেন্ট, অলিম্পিক সিমেন্ট
(অ্যাংকর), আমান সিমেন্ট, দোয়েল সিমেন্ট,
আলহাজ সিমেন্ট, সালাম সিমেন্ট ও পদ্মা সিমেন্ট।
দেশেই সিমেন্ট উৎপাদন: সিমেন্ট উৎপাদনের
সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্যমতে, দেশে
সিমেন্টের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই
সঙ্গে উৎপাদনও বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ২০১২ সালে
দেশে মোট সিমেন্টের চাহিদা ছিল ২২ দশমিক
৫০ মিলিয়ন মেট্রিক টন। একই সময়ে দেশের
সিমেন্ট উৎপাদিত হয়েছে ২২ দশমিক ৫০ মিলিয়ন
মেট্রিক টন। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি
কোম্পানি উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। তাই
২০১৫ সালে দেশে সিমেন্ট উৎপাদনের
লক্ষ্যমাত্রা ২৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন নির্ধারণ করা
হয়েছে।
বিদেশে রপ্তানি: দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখন
বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে সিমেন্ট। এ খাতের
সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে ভারত,
মিয়ানমার, নেপাল, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কায়
সিমেন্ট রপ্তানি করা হয়।
দেশেই আন্তর্জাতিক মানের সিমেন্ট: দেশে
উৎপাদিত সিমেন্টে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা
হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিএসটিআই-স্ট্যান্ডার্ড
অনুসরণ করা হয়। প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে
থাকতে সব কোম্পানিই পণ্যের মান উন্নত রাখার
জন্য চেষ্টা করছে।
বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স
অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও
মদিনা গ্রুপের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আবদুল
কাইয়ুম মিয়া বলেন, বাংলাদেশে এখন আন্তর্জাতিক
মানের সিমেন্ট উৎপাদন করা হয়। দেশের চাহিদা
মিটিয়ে বাইরের দেশেও সিমেন্ট রপ্তানি করা
হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বাজারে এখন যেসব
সিমেন্ট পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর অধিকাংশেরই
মান একই রকম। তবে অনেক ক্ষেত্রে বিক্রি
বৃদ্ধির জন্য মুখরোচক বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়ে
থাকে। প্রকৃতপক্ষে সব সিমেন্টই আন্তর্জাতিক
মানের। কেননা প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে
থাকতে সবাই পণ্যের মান ভালো রাখার জন্য
সচেষ্ট থাকে।
আনোয়ার গ্রুপের গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক
মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মানের দিক
থেকে আমাদের দেশের সিমেন্ট খুবই
ভালো। বিশ্বের যেকোনো দেশের
যেকোনো কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতায়
করতে পারে।’
মনোয়ার হোসেন আরও বলেন, বর্তমানে
সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ গ্যাস ও
বিদ্যুৎ। কেননা অনেক কোম্পানি কারখানা
স্থাপনের পরও গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংযোগ পাচ্ছে না।
আবার গ্যাস-বিদ্যুৎ পেলেও তা পর্যাপ্ত নয়। তাঁর
মতে, সিমেন্ট খাতের উন্নয়নে দেশের
প্রাইভেট সেক্টর, বিশেষ করে আবাসন খাতের
উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ
নেওয়া উচিত।