Sunday, June 14, 2020

সাইয়িদুল ইস্তিগফার (সাইয়েদুল ইস্তেগফার) বা ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দো‘আ

সাইয়িদুল ইস্তিগফার (সাইয়েদুল ইস্তেগফার) বা ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দো‘আ

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে এই দো‘আ পাঠ করবে, দিনে পাঠ করে রাতে মারা গেলে কিংবা রাতে পাঠ করে দিনে মারা গেলে,
সে জান্নাতী হবে’।

اَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّىْ لآ إِلهَ إلاَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِىْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّمَا صَنَعْتُ، أبُوْءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَىَّ وَأَبُوْءُ بِذَنْبِىْ فَاغْفِرْلِىْ، فَإِنَّهُ لاَيَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلاَّ أَنْتَ-

উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা আনতা রববী লা ইলা-হা ইল্লা আনতা খালাক্বতানী, ওয়া আনা ‘আবদুকা ওয়া আনা ‘আলা ‘আহদিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাসতাত্বা‘তু, আ‘ঊযুবিকা মিন শার্রি মা ছানা‘তু। আবূউ লাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়া ওয়া আবূউ বিযাম্বী ফাগফিরলী ফাইন্নাহূ লা ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আনতা।

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার পালনকর্তা।
তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ।
আমি  তোমার দাস।
আমি আমার সাধ্যমত তোমার নিকটে দেওয়া অঙ্গীকারে ও প্রতিশ্রুতিতে দৃঢ় আছি।
আমি আমার  কৃতকর্মের অনিষ্ট হ’তে তোমার নিকটে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
আমি আমার  উপরে তোমার দেওয়া অনুগ্রহকে স্বীকার করছি এবং আমি আমার গোনাহের স্বীকৃতি দিচ্ছি।
অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা কর। কেননা তুমি ব্যতীত পাপসমূহ ক্ষমা করার কেউ নেই’।


বুখারী, মিশকাত হা/২৩৩৫ ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, ‘ইস্তিগফার ও তওবা’ অনুচ্ছেদ

ঘুমানোর পূর্বের আমলগুলো

কোরান ও হাদিস সম্পর্কে জানুন
ঘুমানোর পূর্বে যে আমল
রাসুল (সাঃ) ঘুমানোর পূর্বে যে আমলগুলো করতেন-
১- ঘুমানোর পূর্বে ওযু করে নেওয়া- আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি ওযু অবস্থায় রাত্রি যাপন করে তার অন্তর্বাসে এক ফিরিশ্তাও রাত্রিযাপন করেন। সুতরাং যখনই সে জাগ্রত হয় তখনই ঐ ফিরিশ্তা বলেন, ‘হে আল্লাহ! তোমার বান্দা অমুককে ক্ষমা করে দাও, কারণ সে ওযু অবস্থায় রাত্রি যাপন করেছে।’’(ইবনে হিববান, সহীহ তারগীব ৫৯৪)
তিনি আরো বলেন, যে কোনও মুসলিম যখনই ওযু অবস্থায় রাত্রিযাপন করে, অতঃপর রাত্রিতে (সবাক্) জেগে উঠে ইহকাল ও পরকাল বিষয়ক কোন মঙ্গল প্রার্থনা করে, তখনই আল্লাহ তাকে তা প্রদান করে থাকেন।’’(আবু দাঊদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, সহীহ তারগীব ৫৯৫)

২- শয়ন অবস্থায় দুই হাতের তালু একত্রে মিলিয়ে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে তাতে ফুঁ দিবে : তারপর দুই হাতের তালু দ্বারা দেহের যতোটা অংশ সম্ভব মাসেহ করবে। মাসেহ আরম্ভ করবে তার মাথা, মুখমণ্ডল ও দেহের সামনের দিক থেকে। (এভাবে ৩ বার করবে অর্থাৎ সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস পড়ে মাসাহ করবে তাহলে ১ বার হল তারপর আবার সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস পড়ে মাসাহ করবে তাহলে ২ বার হল এরপর আরও ১ বার করবে সর্বমোট ৩বার) (বুখারি-৫০১৭)

৩- রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : যে ব্যক্তি শোয়ার সময় আয়াতুল কুরসী পড়বে শয়তান সারা রাত তার নিকটে যাবে না।(বুখারি-২৩১১)

৪- রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : যে ব্যক্তি রাতে সুরা বাকারার শেষ ২ আয়াত (আ-মানার রাসূলু--) তেলাওয়াত করবে এটা তার জন্য যথেষ্ট হবে ”। (বুখারি- ৪০০৮)

৫- নবী (সাঃ) বলেছেন, রাতে (কুল ইয়া আইয়্যু হাল কা-ফিরুন) (অর্থাৎ সূরা কা-ফিরুন) পাঠ করা শির্ক থেকে মুক্তি পেতে উপকারী। (সহীহ তারগীব-৬০২)

৬- একদা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তার সাহাবাদের বললেন, “তোমাদের কেউ কি এক রাতে এক তৃতীয়াংশ কুরআন পড়তে অসমর্থ হবে?” এতে সকলকে বিষয়টি ভারী মনে হল। বলল, একাজ আমাদের মধ্যে কে পারবে, হে আল্লাহর রাসূল?! তিনি বললেন, সূরা ইখলাস হল এক তৃতীয়াংশ কুরআন।(বুখারী- ৫০১৫) [১ বার সুরা ইখলাস পড়া]

৭- “রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন ঘুমানোর ইচ্ছা করতেন তখন তাঁর ডান হাত তাঁর গালের নীচে রাখতেন, তারপর এ দো‘আটি বলতেন।”
« اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا».
(আল্লাহুম্মা বিস্‌মিকা আমূতু ওয়া আহ্ইয়া)।
“হে আল্লাহ ! আপনার নাম নিয়েই আমি মরছি (ঘুমাচ্ছি) এবং আপনার নাম নিয়েই জীবিত (জাগ্রত) হবো।(বুখারি- ৬৩২৪)

৮- ডান কাতে শুয়ে ও ডান হাত গালের নিচে দিয়ে নিচের দোয়াটি পড়বেন.
اللَّهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ».
(আল্লা-হুম্মা ক্বিনী ‘আযা-বাকা ইয়াওমা তাব‘আছু ‘ইবা-দাক)
“হে আল্লাহ! আমাকে আপনার আযাব থেকে রক্ষা করুন, যেদিন আপনি আপনার বান্দাদেরকে পুনর্জীবিত করবেন। (তিরমিজি- ৩৩৯৮)

৯- রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আলী এবং ফতেমা (রাঃ)- কে বলেন : আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছু বলে দিবো না যা তোমাদের জন্য খাদেম অপেক্ষাও উত্তম হবে? যখন তোমরা তোমাদের বিছানায় যাবে, তখন তোমরা ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, এবং ৩৪ বার আল্লা-হু আকবার বলবে, তা খাদেম অপেক্ষাও তোমাদের জন্য উত্তম হবে’’। (বুখারী- ৩৭০৫)

১০- রাসূল (সাঃ) বলেন : “যে ব্যাক্তি প্রত্যেক রাতে তাবারকাল্লাযী বিইয়াদিহিল মুলক (সুরাহ মূলক) পাঠ করবে এর মাধ্যমে মহিয়ান আল্লাহ্ তাকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করবেন (সহিহ নাসাই, সহিহ তারগিব, হাকিম-৩৮৩৯, সিলসিলাহ সহিহাহ-১১৪০, শায়খ আলবানী রঃ হাদীছটি হাসান সহিহ বলেহেন, দ্র: সহীহ তারগীব ও তারহীব, হা/ ১৪৭৫ ও ১৪৭৬)
#মুখস্ত বা দেখে দেখে উভয় ভাবেই পড়া যাবে আর এটা ঘুমের আগে পড়াও শর্ত নয় বরং মাগ্রিবের পর থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত রাতের যে কোন সময় পড়লেই হবে]

১১- রাতে এক শো আয়াত পাঠ করা- তামিমে দারি ‎রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম‎ বলেছেন: “যে ব্যক্তি রাতে এক শো আয়াত পাঠ করল, তার জন্য পূর্ণ রাতের কিয়াম (সারা রাত ধরে নামাজ আদায়ের সওয়াব) লিখা হবে”(দারেমি-৩৪৫০, শাইখ আল-বানি হাদিসটি সহিহ বলেছেন)
#মুখস্ত বা দেখে দেখে উভয় ভাবেই পড়া যাবে আর এটা ঘুমের আগে পড়াও শর্ত নয় বরং মাগ্রিবের পর থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত রাতের যে কোন সময় পড়লেই হবে]
এক শো আয়াত পাঠ করা খুব সহজ, দশ মিনিটের বেশী সময় লাগে না। আপনার হাতে সময় কম থাকলে উদাহরণ স্বরূপ সূরা সাফ্‌ফাতের প্রথম চার পৃষ্ঠা পড়ে এ সওয়াব অর্জন করতে পারেন, অথবা সূরা কালাম ও আল-হাক্কাহ পাঠ করুন। আর সুরা মূলক পড়লে যেহেতু ৩০ আয়াত হয়ে যাচ্ছে আবার সুরা ইখলাস, সুরা কাফিরুন, আয়াতুল কুরসি, সুরা বাকারার শেষ ২ আয়াত পড়াতে সব মিলে ৩০+১৩=৪৩ আয়াত পড়া এমনিতেই হয়ে যাচ্ছে সেখেত্রে ১০০ হতে বাকি থাকে ৫৭ আয়াত তাই চাইলে আপনার ইচ্ছামত যে কোন ৫৭ আয়াত পড়তে পারেন কিংবা এগুলো বাদেও ১০০ আয়াত পড়তে পারেন বা তাঁরও বেশি যতটা সম্ভব।
কোন কারণে যখন পড়তে না পারেন, ফজর থেকে যোহরের আগ পর্যন্ত সময়ে পড়ে নিন। এ নিয়ে গাফিলতি করবেন না, ইনশাআল্লাহ কিয়ামুল লাইলের সওয়াব অর্জন হবে। ওমর ইব্‌ন খাত্তাব ‎রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম‎ বলেছেন:
“যে তার পূর্ণ ‘হিযব’ ও অথবা আংশিক ‘হিযব’ না পড়ে ঘুমিয়ে গেল, অতঃপর সে যদি তা ফজর ও যোহরের মধ্যবর্তী সময়ে পড়ে নেয়, তার জন্য গণ্য করা হবে যেন সে তা রাতেই পড়েছে”(মুসলিম-৭৪৭)
মুবারক পুরী রহ. এ হাদিস প্রসঙ্গে বলেছেন: “এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় রাতে কুরআন থেকে কিছু নির্ধারণ করে নেয়া জায়েয, যদি ঘুমের জন্য অথবা কোন কারণে তা ছুটে যায়, তাহলে তার কাযা করাও জায়েয। যে তা ফজর ও যোহর মধ্যবর্তী সময়ে কাযা করবে, সে রাতে আদায়কারী গণ্য হবে। (এই অংশটা শাইখ ডঃ মানজুর ইলাহির কিয়ামুল লাইলের সমান সওয়াব বই থেকে সংগৃহীত)

১২- রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন, কেউ যদি ওযু করে ডান কাতে শুয়ে সবশেষে এ দোয়া পাঠ করে তারপর রাতে মৃত্যুবরণ করে, সে ইসলামের উপর মৃত্যুবরণ করবে।(বুখারী- ৬৩১১)
#ঘুমাতে যাওয়ার আগে ওযু করে নিলেই যথেষ্ট, এই দোয়ার জন্য আবার আলাদা ওযু করতে হবে না]
«اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ، وَوَجَّهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ، لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ، آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ، وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ».
(আল্লা-হুম্মা আস্‌লামতু নাফ্‌সী ইলাইক, ওয়া ফাউওয়াদ্বতু আমরী ইলাইক, ওয়া ওয়াজ্জাহ্‌তু ওয়াজহিয়া ইলাইক, ওয়াআলজা’তু যাহ্‌রী ইলাইক, রাগবাতান ওয়া রাহবাতান ইলাইক, লা মালজা’আ ওয়ালা মান্‌জা মিনকা ইল্লা ইলাইক, আ-মানতু বিকিতা-বিকাল্লাযী আনযালতা ওয়াবিনাবিয়্যিকাল্লাযী আরসালতা)।
“হে আল্লাহ! আমি নিজেকে আপনার কাছে সঁপে দিলাম। আমার যাবতীয় বিষয় আপনার কাছেই সোপর্দ করলাম, আমার চেহারা আপনার দিকেই ফিরালাম, আর আমার পৃষ্ঠদেশকে আপনার দিকেই ন্যস্ত করলাম; আপনার প্রতি অনুরাগী হয়ে এবং আপনার ভয়ে ভীত হয়ে। একমাত্র আপনার নিকট ছাড়া আপনার (পাকড়াও) থেকে বাঁচার কোনো আশ্রয়স্থল নেই এবং কোনো মুক্তির উপায় নেই। আমি ঈমান এনেছি আপনার নাযিলকৃত কিতাবের উপর এবং আপনার প্রেরিত নবীর উপর।”
=============================================
এগুলো ছিল রাসুল (সাঃ)-এর ঘুমানোর পূর্বের আমল, আমাদের উচিত সাধ্যমত তার অনুসরণ করা, কোন রাতে কোন কারনে মিস হলে ফজর থেকে যোহরের মাঝে আদায় করে নিলে রাতে আদায় করা হিসাবেই গণ্য হবে যেটা ১১ নাম্বার পয়েন্টে বিস্তারিত বর্ণীত হয়েছে তাই কোন অসুস্থতা বা সমস্যার কারনে রাতে মিস হয়ে গেলে ঐ সময়ে আদায় করতে পারবেন। এগুলো জিকির আজকার সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত সুতরাং আমাদের উচিত হবে সবটাই করার চেষ্টা করা তবে কেও সবটা করতে না পারলে সে যতটা পারে তার সাধ্যমত করবে ইন শা আল্লাহ।

#প্রশ্ন হতে পারে মহিলারা যারা হায়েজ নেফাসগ্রস্ত তারা তো তাসবিহ তাহলিল করতে পারবে কিন্ত রাতের জিকিরের মধ্যে কিছু তো কুরআন তিলায়াতও রয়েছে যেমন সুরা মূলক পড়া, আয়াতুল কুরসি পড়া, সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস পড়া, বাকারার শেষ ২ আয়াত পড়া সেখেত্রে তারা কি এগুলো পড়তে পারবে?

উত্তর- জি পড়তে পারবে, এটা যেহেতু জিকির আজকারের নিয়তে আর রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সার্বক্ষণিক আল্লাহর জিকির করতেন যেটা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত আর তিনি তার স্ত্রীদেরকে কখনোই হায়েজ নেফাস অবস্থায় জিকির আজকার থেকে নিষেধ করেন নি-
আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বক্ষণ (সর্বাবস্থায়) আল্লাহর যিকির করতেন।’(মুসলিম- ৩৭৩, রিয়াদুস সলেহিন- ১৪৫২)
সুতরাং মহিলারা হায়েজ নেফাস অবস্থাতেও রাতের পুরনাঙ্গ যে জিকির আজকার বর্ণীত হয়েছে উপরে তার সবগুলোই করতে পারবে।

#২য় প্রশ্ন হতে পারে, যে সমস্ত মহিলাদের সুরা মূলক বা বাকারার শেষ ২ আয়াত মুখস্ত নেই কুরআন দেখে পড়তে হয় তারা কি হায়েজ নেফাস অবস্থায় কুরআন দেখে পড়তে পারবে?

উত্তর- শাইখ বিন বাজ (রঃ) এর অভিমত যে, জিকির আজকার হিসাবে নারিরা মুখস্ত কুরআন তিলায়াত করতে পারবে অর্থাৎ মুল মুসহাফ যেন না ধরে যেখানে শুধুই আরবি কুরআন রয়েছে অবশ্য মোবাইলে বা কম্পিউটরে অর্থাৎ যে কোন ডিভাইসে কিংবা অনুবাদ সহ কুরআনে কিংবা তাফসির থেকে পড়তে কোন সমস্যা নেই, এখন কোন নারীর পক্ষে যদি মুখস্ত না থাকে তারপর মোবাইলে বা কম্পিউটরে অর্থাৎ যে কোন ডিভাইসে কিংবা অনুবাদ সহ কুরআনে কিংবা তাফসির থেকেও পড়া সম্ভব না হয় বরং শুধুই মুল মুসহাফ (১০০ ভাগ আরবি কুরআন) রয়েছে বাড়ীতে তাহলে জিকির আজকারের নিয়তে জিকিরের অংশটা সে পড়তে পারবে তবে হাতে গ্লাফস নিয়ে পড়তে হবে সেখেত্রে।

#৩য় আরেকটা প্রশ্ন হতে পারে, ঘুমানোর পূর্বে ওযু করতে হয় সেখেত্রে হায়েজ নেফাস অবস্থায় কিংবা স্বামী স্ত্রী সঙ্গমজনিত জুনুবি অবস্থায়ও কি ওযু করা যাবে?

উত্তর- জি ওযু করা যাবে, কোন সমস্যা নেই, আপনি যে অবস্থাতেই থাকুন না কেন প্রতি রাতে ঘুমানোর পূর্বে ওযু করে নিবেন-

উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করলেন, আমাদের কেউ কি নাপাক অবস্থায় ঘুমাতে পারবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তবে ওযু করে নেবে।(তিরমিজি- ১২০)

আবদুল্লাহ ইবনু আবূ কাইস (রাহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিতরের নামায বিষয়ে আয়িশাহ (রাযিঃ)-কে প্রশ্ন করলাম যে, তিনি কি রাতের প্রথম ভাগে বিতর আদায় করতেন না শেষ ভাগে? তিনি বললেন, তিনি দুই সময়েই তা আদায় করতেন। তিনি কখনো তা রাতের প্রথম ভাগে আদায় করে নিতেন আবার কখনো শেষ রাতে আদায় করতেন।
আমি বললাম, আলহামদুলিল্লাহ, সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি এ ব্যাপারে ব্যাপক সুবিধাজনক ব্যবস্থা রেখেছেন। আমি আবার প্রশ্ন করলাম, তার কিরআত পাঠ কেমন ছিল? তিনি কি তা চুপি চুপি পড়তেন না সশব্দে পড়তেন? তিনি বললেন, উভয়ভাবেই পড়তেন। কখনো তিনি তা চুপি চুপি পড়তেন, আবার কখনো সশব্দে পড়তেন।
আমি বললাম, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার যিনি এ ব্যাপারে প্রশস্ততর ব্যবস্থা রেখেছেন। আমি আবার প্রশ্ন করলাম, তিনি জানাবাতের (স্ত্রীসহবাস জনিত গোসল) ব্যাপারে কি করতেন? তিনি কি ঘুমিয়ে যাওয়ার পূর্বেই গোসল সারতেন না গোসলের পূর্বেই ঘুমিয়ে যেতেন।
তিনি বললেন, তিনি দু'টোই করতেন। তিনি কখনো গোসলের পর ঘুমাতেন আবার কখনো ওযু করে ঘুমিয়ে যেতেন (জাগ্রত হওয়ার পর গোসল করতেন)। আমি বললাম, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার যিনি এ ব্যাপারেও প্রশস্ততর ব্যবস্থা রেখেছেন।(তিরমিজি- ২৯২৪)
=========================
অত্তান্ত জরুরি এই প্রশ্নগুলোর উত্তরে সাহায্য করেছেন শাইখ আব্দুল হামিদ ফাইজি মাদানি (হাফিঃ), শাইখ সাইফুল ইসলাম মাদানি (হাফিঃ), শাইখ আব্দুর রাকিব মাদানি (হাফিঃ)
আল্লাহ তা’লা শাইখদের উত্তম প্রতিদান দান করুন আর আমাদেরকে সুন্নাতের সাথে সার্বক্ষণিক থাকার তাওফিক দান করুন
ঈদের সুন্নাতসমূহ

১. অন্য দিনের তুলনায় সকালে ঘুম থেকে উঠা। (তাহতাবী আলা মারাকিল ফালাহ-২৮৫৯, বাইহাকী হাদীস নং-৬১২৬)

২. মিসওয়াক করা। (তাহতাবী আলা মারাকিল ফালাহ-২৮৯)

৩. গোসল করা। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নাম্বার-১৩১৫)

৪. শরী‘আত সম্মত সাজ-সজ্জা করা। (সহীহ বুখারী শরীফ হাদীস নাম্বার-৯৪৮)

৫. সামর্থ অনুযায়ী উত্তম পোষাক পরিধান করা। উল্লেখ্য, সুন্নাত আদায়ের জন্য নতুন পোষাক জরুরী নয়। (তাহতাবী আলা মারাকিল ফালাহ-২৮৯)

৬. সুগন্ধি ব্যবহার করা। (আদ্দুররুল মুখতার-২/১৬৮)

৭. ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে মিষ্টি জাতীয় জিনিস, যেমন খেজুর ইত্যাদি খাওয়া। তবে ঈদুল আযহাতে কিছু না খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া এবং ঈদের নামাযের পর নিজের কুরবানীর গোশত দ্বারা আহার করা উত্তম।(সহীহ বুখারী হাদীস নং-৯৫৩, আদ্দুররুল মুখতার-২/১৬৮)

৮. সকাল সকাল ঈদগাহে যাওয়া। (সুনানে আবু দাউদ হাদীস নাম্বার-১১৫৭)

৯. ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে সাদাকায়ে ফিতর আদায় করা। (আদ্দুররুল মুখতার-২/১৬৮)

১০. ঈদের নামায ঈদগাহে আদায় করা সুন্নাত। বিনা উযরে মসজিদে আদায় করা উচিত নয়। (সহীহ বুখারী হাদীস নাম্বার-৯৫৬)

১১. যে রাস্তায় ঈদগাহে যাবে সম্ভব হলে ফেরার সময় অন্য রাস্তা দিয়ে ফেরা। (সহীহ বুখারী হাদীস নাম্বার-৯৮৬)

১২. পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া। (তাহতাবী আলা মারাকিল ফালাহ-২৯০)

১৩. ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাওয়ার সময় আস্তে আস্তে এই তাকবীর বলতে থাকা (اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَاَللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ)

তবে ঈদুল আযহাতে যাওয়ার সময় এই তাকবীর উচ্চস্বরে পড়তে থাকবে। (বাইহাকী হাদীস নং-৬১৩০)

Saturday, March 21, 2020

রাব্বানা যালামনা আনফুসিনা ওয়া ইন-লাম তাঘফির লানা ওয়াতার হামনা লানা কুনাননা মিনাল-খাসিরীন

রাব্বানা যালামনা আনফুসিনা ওয়া ইন-লাম তাঘফির লানা ওয়াতার হামনা লানা কুনাননা মিনাল-খাসিরীন

সূরা আল-আ'রাফ, আয়াতঃ ২৩

رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ

মোনাজাতের অর্থ

"হে রাব্বুল আলামিন! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি। আপনার ক্ষমা এবং অনুগ্রহ ছাড়া আমরা ধ্বংস হয়ে যাব।"

ফযিলত

এই আয়াতটি এটি প্রমান করার জন্যে যথেষ্ট যে কোন মানুষের সামান্য গুনাহ ও যদি আল্লাহ্‌ তাআলা ক্ষমা না করেন, তাঁকে এর জন্য অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। (তাফসীর মাযহারি)